যে ৬ কারণে করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত হবেন না

মিরন নাজমুল:
করোনাভাইরাস দ্রুত বিশ্বব্যাপি ছড়াচ্ছে, আর এ জন্যই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি উচ্ছারণ করছেন। ভাইরাসটি সংক্রামনের ক্ষেত্রে ভয়াবহ মাত্রার জন্য এই সতর্কতা নয়, বরং প্রতিনিয়ত বেশি দেশ সংক্রামিত হচ্ছে বলেই এই সতর্কতা। আমাদের চেনা-জানা প্রচলিত ফ্লু ভাইরাসের তুলনায় শতকরা হিসেবে যদি এই করোনাভাইরাসের মারণ ক্ষমতা কম থাকে, তাহলে সেটা নিয়ে বড় ধরণের আতঙ্কে ভোগার যুক্তি নেহায়েত কম। আতঙ্কিত না হবার জন্য বৈজ্ঞান সমর্থিত টি ৬ কারণ দেয়া হলো।

১. করোনাভাইরাস সাধারণত হালকা রোগের কারণ‍:
এই ভাইরাসের সংক্রামনে হালকা জ্বর-শর্দি হয়। শেষের দিকে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সাধারণ নিয়মে পাবলিক হাসপাতালে শ্বাস কষ্টের উপসর্গ থেকে এটা নির্ণয় করা হয়।

২. এই ভাইরাসটি আমাদের জন্য এই প্রথম কোন অজ্ঞাত হুমকি নয়:
গত দুই দশকে স্বাস্থ্যবিষয়ক অভিজ্ঞরা আরো অজানা ভাইরাসের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০২ সালে সার্চ ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিলো এই চিন থেকেই। সেটাও এই করোনাভাইরাসেরই একটি টাইপ ছিলো। সেই ভাইরাসে প্রায় ৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলো এবং মৃতের সংখ্যা ছিলো শতকরা ১০ ভাগ। যার অনুপাত বর্তমান করোনাভাইরাস থেকে অনেক বেশি ছিলো। সেই চার্চ ভাইরাস বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং সেটার কোন কার্যকলাপ এখন আর নেই।
২০১২ সালে সৌদি আরবে আরেকটি করোনাভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছিলো ঠান্ডা-শর্দির সাথে শ্বাসকষ্ঠের উপশর্গ দেখে। সেটিও করোনাভাইরাসের মতো জুনোটিক (এমইআরএস-কোভ) মধ্যপ্রাচ্যে উৎপত্তি হয়েছিলো। সেই ভাইরাসের প্রাণঘাতির শতকরা হার ছিলো ৩৫ শতাংশ।
মানব প্রজাতি সেই হুমকিও মোকাবেলা করেছে।
এছাড়া একুশ শতকে আমাদের পরিচিত হতে হয়েছে বোকাভাইরাস, নতুন এনথ্রোভাইরাস, নেটাপনেউমোভাইরাসসহ গ্রিপে অ্যভিয়ার, গ্রিপে এইচ১এন১ মতো বিভিন্ন গ্রিপে বি টাইপ ভাইরাসের বংশানুক্রমের সাথে।

৩. শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই এটি ঠান্ডা-সর্দির উপসর্গ মাত্র:
সংক্রামনের অল্প সময়ের মধ্যেই এটির প্রকৃতি, ধরণ বের করা হয়েছে এবং কোভিড১৯ এর জিনোমিক ডায়াগন্টিক পদ্ধতির ডিজাইন বিজ্ঞানীরা রপ্ত করেছে। এপিডেমিওলজি (পশুপাখির রোগতত্ত্ব) এবং ক্লিনিকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই ভাইরাস ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই ঠান্ডা লাগার মতো হালকা অসুস্থতা ঘটায়।

৪. কোন ধরণের উপসর্গ ছাড়াও সংক্রমন ঘটাতে পারে:
এই ভাইরাসের বিশ্বব্যাপী সংক্রামনের ধরণ নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে, এই ভাইরাস কোন ধরণের উপসর্গ ছাড়াই কারো শরীরে অবস্থান করতে পারে এবং সুস্থ মানুষদের দেহের মধ্যে স্থানান্তর হতে পারে।

৫. সংক্রামনে মৃত্যুর হার ২ শতাংশ‍:
করোনাভাইরাসের সংক্রমনে গড়ে মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। আশির উর্ধ্বে বয়সের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ১৪.৮ শতাংশ, ৭০ থেকে ৭৯ বছরের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ, ৬০ থেকে ৬৯ বয়সের ক্ষেত্রে ৩.৬ শতাংশ, ৫০ থেকে ৫৯ বয়সের ক্ষেত্রে ১.৩ শতাংশ, ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ, ৩০ থেকে ৩৯ বছর পর্যন্ত ০.২ শতাংশ, ২০ থেকে ২৯ বছর পর্যন্ত ০.২ শতাংশ, ১০ থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত ০.২ শতাংশ পর্যন্ত হতে দেখা গেছে। ১০ বছরের কম শিশুদের কেউ এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেনি। পুরুষদের মৃত্যুহার মেয়েদের থেকে বেশি। পুরুষের ক্ষেত্রে ২.৮ শতাংশ ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ১.৭ শতাংশ মৃত্যুর হার।
উপরের বর্ণিত ডাটা থেকে সহজেই অনুমেয় বয়স্ক মানুষ বেশি মারা যায়। সাধারণভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদের কম থাকার কারণে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণেই মারা যেতে পারে।

 
৬. আমাদের পরিচিত ফ্লু ভাইরাসে প্রতি বছর আরো বেশি মানুষ মারা যায়‍:
প্রতিবছরে আমাদের পরিচিত ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যে পরিমাণ মানুষ মারা যায়, করোনাভাইরাসে সে তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক কম। তবে সেগুলোতে মিডিয়ার প্রভাব তৈরি হয় না বলে আমরা বুঝতে পারি না। উদাহরণস্বরূপ, স্পেনে গত মৌসুমের তথ্য অনুসারে ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা ৬,৩০০ হয়েছিলো। এই ভাইরাসটি সংক্রামনের ব্যপ্তি সময় ধরা হয় ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। অর্থাৎ গত মৌসুমের ইনফ্লুয়েঞ্জাতে প্রতিদিন গড়ে ৩৫জন মানুষ মারা গেছে। তবে এগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্ব গণমাধ্যমে না আসার কারণে এবং নিয়মিত ঘটার কারণে মানুষ সেটা এভাবে উপলব্ধি করে না এবং আতঙ্ক ছড়ায় না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ