২৪ ঘন্টায় দুই হাজার আক্রান্ত, সোমবার থেকে অবরুদ্ধ স্পেন

মিরন নাজমুল: স্পেনে বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজারে। শুক্রবার রাতে এই সংখ্যা ৪২০০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সংক্রামনের সংখ্যায় দেশটির স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার সঙ্কায় আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

পেদ্রো সানচেজ, স্পেনের প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রে সানচেজ এই সংকট মোকাবেলা করার জন্য এর মধ্যেই স্টেট-অব এলার্ট জারি করেছে। এটি ছিলো জরুরি অবস্থার তিন ধাপের প্রথমটি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার থেকে দেশটি অবরুদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন পেদ্রে সানচেজ।

১৯৭৫ সালে গণতন্ত্রে ফিরে আসা দেশটিতে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার জরুরি অবস্থা জারি হতে যাচ্ছে। বিমান পরিবহন সংস্থার ধর্মঘটের কারণে ২০১০ সালে দেশটিতে প্রথম জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিলো। দেশটির বড় শহরগুলোতে ইতোমধ্যেই গতকাল শুক্রবার স্টেট অব এলার্ট ঘোষণার পর রাত থেকে বার, রেস্টুরেন্ট ও দোকানপার্ট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

শুধুমাত্র প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ের জন্যে সুপার মার্কেট, ফার্মেসি, পেট্রোল পাম্পগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

সঙ্কটকালীন সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন একজন বার্সেলোনা শহরবাসীর

এদিকে সেভিইয়া শহরের মেয়র ইতোমধ্যে বিখ্যাত ইস্টার মিছিল (সেমানা সান্তা) এর আয়োজন স্থগিত ঘোষণা করেছে।

কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম তোররা কাতালোনিয়াকে স্পেনের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। মাদ্রিদ থেকে কাতালোনিয়াতে আসা বিমান, রেল ও সমুদ্রপথের প্রবেশ বন্ধ করতে বলেছেন।
আজ শনিবার (১৪ মার্চ) জেট-টু এয়ার লাইন্স স্পেনের সাথে সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। এ সময় আকাশের মাঝপথে থাকা অবস্থায় থাকা বিমানও স্পেনে প্রবেশ বন্ধ করে ফ্লাইট ফিরিয়ে নেয় কতৃপক্ষ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমন ইটালির পরে এখন স্পেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে, ইউরোপ এখন কোপিড-১৯-এর কারণে ঘটিত মহামারির কেন্দ্রস্থলে রূপ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইতালির পরে স্পেন ইউরোপের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সামনে এক অনিশ্চিত যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে মরণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ