করোনা মহামারী ও সাম্প্রতিক স্পেন

মিরন নাজমুল: 

• গত ২৪ ঘন্টায় (২৬ মে) স্পেনে মৃতের সংখ্যা রেজিস্ট্রি করা হয়েছে ৩৫জন। যা গতকালের তুলনায় ৩০% শতাংশ কম।
গতকাল মৃতের সংখ্যা ছিলো ৫০ জন, গত পরশু ছিলো ৭০ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৯৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যা গতকালের তুলনায় ৪৭% শতাংশ বেশি হয়েছে গত ২৪ ঘন্টায়। গতকাল আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৩২ জন, গতপরশু ছিলো ২৪৬ জন।

• করোনা মহামারীতে স্পেন আক্রান্তের পর রাষ্ট্রীয় সতর্কতার ১১তম সপ্তাহ চলছে বর্তমানে। গত ১০ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে (১৫-২৮ মার্চ) আক্রান্তের সংখ্যাটা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিলো।
পুরু তৃতীয় সপ্তাহ জুড়ে (২৮ মার্চ-৪ এপ্রিল) প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা ছিলো ভয়াবহ। এ সপ্তাহ প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে হাজারের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলো মৃতের সংখ্যা।
এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম সপ্তাহ (৫-১৮ এপ্রিল) মৃতের ও আক্রান্তের সংখ্যা চূড়ান্ত পর্যায় থেকে কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছিলো। পরে ৬ষ্ঠ সপ্তাহের শেষের দিকে আরো কিছুটা নীচের দিকে বাঁক দেয় মহামারীতে বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান।
৭ম সপ্তাহে (২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে) মৃতের সংখ্যা পুরোপুরি ৩০০এর নীচে নেমে আসে। ৯নং ও ১০ম সপ্তাহে (১০-২৪ মে) মৃতের সংখ্যা শতকের নীচে নামে। তবুও এই দুই সপ্তাহে গড়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০এর কোঠায় ছিলো।
এখন ১১তম সপ্তাহের ২দিন চলছে। সপ্তাহের শুরুটা ইতিবাচক। প্রতিদিন গড়ে মৃতের সংখ্যা ৫০ জনের নীচে। আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০জনের মতো। পুরু সপ্তাহের ফলাফল জানতে আরো ৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

• করোনা মহামারিতে স্পেনে এখন পর্যন্ত সর্বমোট মৃত্যুবরণ করেছে মোট আক্রান্তের ১১ শতাংশ। সংখ্যায় ২৭হাজার ১১৭জন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৩৬হাজার ২৫৯জন। সুস্থ হয়েছেন মোট আক্রান্তের ৫২ শতাংশ। সংখ্যায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার ১৮২জন।

• স্পেন থেকে অন্যান্য ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমন এবং অন্যদেশ থেকে স্পেনে পর্যটক আসার ব্যপারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর মধ্যে সময় নির্ধারণ শুরু করেছে।
এ ক্ষেত্রে স্পেন জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে পর্যটনের জন্য খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অবশ্যই স্যানিটেশন নীতিমালার ভেতরে থাকতে হবে।
এছাড়া যারা স্পেন থেকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে পর্যটক হিসেবে যেতে ইচ্ছুক তাদের ক্ষেত্রে ইটালি উন্মুক্ত করবে ৩ জুনের মধ্যে।
ফ্রান্স, জার্মানি, সাইপ্রাস, গ্রিস, সুইডেন ১৫ জুন উন্মুক্ত করবে।

• করোনা মহামারীতে স্পেনে যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন তার ৯৫% শতাংশ বৃদ্ধ। তাদের বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে। আর এ কারণে স্পেনে পেনশনে থাকা মানুষের সংখ্যা গত ৩ মাসে নজিরবিহীনভাবে কমে গিয়েছে।
স্টেট অ্যালার্মের কারণে সেগুরো সোসিয়াল অফিস বন্ধের পর চলতি মে মাসে হিসেব করে দেখা গেছে গত তিন মাসে মূল সংখ্যা ৯৭ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৩৭জন থেকে তিন মাসে ৩৮ হাজার ৫০৮ জন কমে গেছে।
তিন মাসের ব্যবধানে পেনশন ভোগকারীর এই সংখ্যা হ্রাস ২০০৫ সাল থেকে নতুন নিয়মে চালু হওয়া পেনশনের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছে সেগুরো স্যোসাল।

• বর্তমানে কাতালোনিয়ায় প্রতিদিনের মৃতের সংখ্যা কমে এসেছে। গত ২৫ মে মৃত্যুবরণ করেছে ২৯ জন, ২৪মে ১৩ জন, ২৩মে ৩৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে।
কাতালোনিয়ায় মোট মৃত্যুবরণ করেছে ১১ হাজার ৮৭৭জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ৬,৬৩৩জন, বৃদ্ধাশ্রমে ৩৯২৮জন, বাসায় ৭৭৪জন এবং ৫৪২জনের মৃতের স্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি পরিস্থিতির জটিলতার কারণে। কাতালোনিয়ায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৬৫ হাজার ৩০৩জন।
• জুনের ১ তারিখ থেকে বার্সেলোনা ও লেলিদা ব্যতিত পুরো কাতালোনিয়া Fase 2 এ উন্নীত হবে। শুধু কাতালোনিয়া ও লেলিদা শহরকে Fase 1 তে থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ