বার্সেলোনায় স্থায়ী কনস্যুলেট অফিস স্থাপনে সোচ্চার প্রবাসী বাংলাদেশীরা

স্পেনে বাংলাদেশীদের আগমন মূলত নব্বই দশক থেকে। সময়ের ব্যবধানে দেশটিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংখ্যা চল্লিশ হাজারের অধিক। বাংলাদেশীদের বৃহৎ দুটি অংশ রাজধানী শহর মাদ্রীদ এবং পর্যটন নগরী বার্সেলোনায় বসবাস করে।

স্পেনের মাদ্রীদে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত শক্তিশালী সাতজন রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বার্সেলোনা এবং ছারাগছায় দুটি নাম সর্বস্ব অস্থায়ী কনস্যুলেট অফিস আছে, এগুলোতে অনারারি কন্সুল হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন দু’জন স্প্যানিশ নাগরিক এবং কন্সুলেট অফিসের একটিতেও বাংলাদেশী বা বাংলা ভাষাভাষী কেউ কর্মরত নয়। কার্যত, বার্সেলোনার এই অফিস প্রবাসী বাংলাদেশীদের হারানো পাসপোর্ট সনদ সহ অন্যান্য সামান্য কিছু কাজ করার ক্ষমতা রাখে যা প্রবাসীদের চাহিদার তূলনায় খুবই নগন্য।

বার্সেলোনাতে বছরে পাঁচ থেকে ছয়বার মাদ্রীদের দূতাবাস কর্মকর্তারা ভ্রামমাণ কনস্যুলেট সেবা প্রদান করে আসছেন। সেবাগুলো কাতালোনিয়া (বার্সেলোনা) প্রদেশের প্রায় পঁচিশ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অপ্রতুল। ফলে বার্সেলোনায় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের প্রায় ৬৫০কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে মাদ্রীদ যেতে হয় পাসপোর্ট, ভিসাসহ অন্যান্য কাজে।

শহরটিতে বেশ কিছুদিন থেকে প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অন্যতম দাবী স্থায়ী কনস্যুলেট অফিস স্থাপন অথবা আস্থায়ী কনস্যুলেট অফিসকে আরোও দায়িত্বের কর্মপরিসর বৃদ্ধি করে দেয়া। বার্সেলোনায় সদ্য বিগত ভ্রাম্যমাণ কন্সুলেট সেবা শেষে প্রসঙ্গগুলো সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রথম দাবি জানিয়ে পোস্টিং দেন স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফাজ জনি, তাঁর স্ট্যাটাসটি তুলে হুবহু তুলে ধরা হল- “কাতালোনিয়া (বার্সেলোনা, শান্তাকলমা, …..) প্রদেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বৃহৎ একটি অংশের বসবাস। অনেক ক্ষেত্রে মনেহয় এখানকার প্রবাসীরা বাংলাদেশ সরকারের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন সময় সরকারের উচ্চ পদে থাকা কর্তাদের আশ্বাস বাস্তবে কখনও রুপ নিতে দেখিনি। যদিও দূতাবাস পাসপোর্ট সংক্রান্ত ব্যাপারে বছরে কয়েকদিন কাউন্সিল সেবা প্রদান করে আসছে কিন্তু সেবাটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আবার এটি পরিচালনায় বিভিন্ন সময় সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে প্রবাসীরা হয়রানীরও শিকার হচ্ছেন।

কাতালোনিয়ায় যদি বাংলাদেশ দূতাবাসের কন্সুলার সেবা এমন হতঃ

৹ স্থায়ী কন্সুলার সেবা কেন্দ্র স্থাপন।

কন্সুলার সেবা কেন্দ্রটি স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত-

৹ প্রতিমাসে কমপক্ষে একবার কন্সুলার সেবা প্রদান।

৹ বার্সেলোনা প্রবাসীদের  নবায়নকৃত বা নতুন পাসপোর্ট অনারারী কাউন্সিল অফিস ( সি. রামন পেদ্রোর অফিস) থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা। “

মানবাধিকার কর্মী মোহামেদ কামরুল এ প্রতিবেদককে জানান, “অস্থায়ী কন্স্যুলার সেবা নিতে গেলে অনেক সময় সেবা গ্রহীতারা রাস্থায় দীর্ঘ্য লাইনে অপেক্ষা করেন যা স্থানীয় প্রশাসন কর্তিক নিষিদ্ধ এবং দৃষ্টিকটু, এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নহয়।“ তিনিও দাবীগুলোকে সময়ের অন্যতম চাওয়া উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এবং মাদ্রীদ দূতাবাসের প্রতি আহবান জানান বিষোয়গুলো নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু করার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ