স্পেনে ধারাবাহিক চুরি ছিনতাই ঠেকাতে কঠোর আইন, মোবাইল ফোন চুরিতে বাড়বে শাস্তি
বিশ্ব বাংলা ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৩৯:০৯,অপরাহ্ন ২১ জুন ২০২৬স্পেনে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা পকেটমার, মোবাইল ফোন চুরি এবং একই ব্যক্তির বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। দেশটির সরকারি গেজেট বুলেটিন অফিসিয়াল দেল এস্তাদোতে প্রকাশিত নতুন আইনে পুনরাবৃত্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি মোবাইল ফোন চুরিকে বিশেষভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত কয়েক বছরে বিশেষ করে বার্সেলোনা, মাদ্রিদ ও অন্যান্য বড় শহরে পর্যটক, প্রবাসী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সরকারও আইনটির ভূমিকায় স্বীকার করেছে, বারবার সংঘটিত সম্পত্তিবিষয়ক অপরাধ জননিরাপত্তা ও নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধের ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বারবার সংঘটিত চুরি ও সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ স্পেনের বিশেষ করে বার্সেলোনা, মাদ্রিদ ও অন্যান্য বড় শহরে পর্যটক, প্রবাসী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সরকার মনে করছে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত অপরাধ পুলিশের কার্যক্রম ও বিচারব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যা মোকাবিলায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
নতুন অর্গানিক আইন ১/২০২৬ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই ধরনের অপরাধে অন্তত তিনবার দোষী সাব্যস্ত হলে এবং সেসবের মধ্যে অন্তত একটি ক্ষুদ্র অপরাধ হলেও পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ফৌজদারি শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে। এই বিধান চুরি ও প্রতারণা উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে।
আইনের ব্যাখ্যায় স্প্যানিশ সরকার বলেছে, বর্তমানে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সবচেয়ে বেশি চুরি হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে মোবাইল ফোন অন্যতম। একটি মোবাইল হারানো মানে শুধু ডিভাইসের আর্থিক মূল্য হারানো নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়সংক্রান্ত নথি, ব্যাংকিং সেবা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই কারণেই মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণকারী অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস চুরির জন্য বিশেষ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে বিচারকদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি পুনরায় অপরাধ করতে পারেন বলে আশঙ্কা থাকলে আদালত তাকে নির্দিষ্ট এলাকা, পাড়া, শহর বা অঞ্চলে প্রবেশ কিংবা বসবাসে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন। প্রয়োজনে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।
চুরি-সংক্রান্ত অপরাধ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা বাড়াতে নতুন আইনে পৌরসভাগুলোকে সরাসরি ফৌজদারি মামলা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, বহুল পুনরাবৃত্ত চুরির প্রভাব সবচেয়ে আগে অনুভব করে স্থানীয় প্রশাসন, তাই তাদেরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া জরুরি ছিল।
স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ ছোট ব্যবসা, সুপারশপ, কনভিনিয়েন্স স্টোর, রেস্তোরাঁ এবং ডেলিভারি খাতের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে বার্সেলোনার রাভাল, সান্ত আন্তোনি, বাদালোনা কিংবা মাদ্রিদের কিছু এলাকায় দোকান ও ব্যক্তিগত সম্পদ চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, একই ব্যক্তি বারবার চুরি করলেও আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতায় দ্রুত বাহিরে ফিরে আসে।
নতুন আইন সেই বাস্তবতাকেই লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকেরা। কারণ, আইনের মূল লক্ষ্যই হলো একই ব্যক্তির ধারাবাহিক অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। ফলে বাংলাদেশিসহ স্পেনে বসবাসরত প্রবাসী ব্যবসায়ী, কর্মজীবী ও সাধারণ নাগরিকেরা বাস্তবে বেশি আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন, যদিও আইনে কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য আলাদা সুবিধার কথা উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, স্পেনে ধারাবাহিক অপরাধ দমনসংক্রান্ত নতুন আইন গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজকীয় অনুমোদন লাভ করে। পরে ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে স্পেনের সরকারি রাষ্ট্রীয় গেজেটে প্রকাশিত হয়। আইনের চূড়ান্ত বিধান অনুযায়ী, এটি প্রকাশের পরদিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।





