বাংলা-জার্মান সমিতির আয়োজনে গ্রীষ্মকালীন বর্ণিল উইকেন্ড

জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাংলা-জার্মান সমিতির উদ্যোগে ঘরোয়া পরিবেশে আয়োজন করেছে গ্রীষ্মকালীন বর্ণিল উইকেন্ড। গত সপ্তাহান্তে উৎসবমুখর পরিবেশে তারা সম্পন্ন করে এই আনন্দ আয়োজন।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিরা উক্ত আনন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।  আয়োজকরা বলেন, চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত বিশ্বে মানবতা আজ চরম হুমকির মুখে, অদৃশ্য শত্রু  প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে বেশামাল বিশ্ব।  তবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থেকে সুস্থ্ও হয়েছেন বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ।  এর মধ্যে ঘরবন্দি জীবন থেকে অজানা শঙ্কা নিয়েই মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।  মানবকল্যাণে বিশেষ ভূমিকা রেখে কাজও করে যাচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন।

আয়োজকদের সুন্দর এই আয়োজনের মূল লক্ষ্যই ছিলো, বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার, বাঙালির মমত্ববোধ, বাঙালির জাগ্রতবোধ ও বাঙালির সততাবোধকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরাসহ জার্মানিতে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া।  করোনাকালে দেশটির সরকারের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানবতার কল্যাণে বাংলা-জার্মান সমিতির উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রবাসে জীবন-যাপনে সংঘবদ্ধতা, প্রতিবেশীদের সান্নিধ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলা-জার্মান সমিতি।  যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমাজ ও সাংস্কৃতিকে জার্মানিতে একটা সুষ্ঠুরূপ দেওয়াই সমিতির মূল লক্ষ্য।  সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন চ্যারিটি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয় করে, তা মানবতার কল্যাণে ব্যয় করা হয়।

আয়ের বেশি ভাগ অর্থই প্রদান করা হয়, বাংলাদেশের অসহায় মানুষের কল্যাণে।  বিশেষ করে বাংলাদেশের অসহায়- গরীব মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র এবং পানি পরিশোধন সামগ্রী বিতরণ করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।  তারা এই সেবামূলক কাজগুলো সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে  পালন করছেন বলে জানান বাংলা-জার্মান সমিতির কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নানামুখী সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  এ বিষয়ে বাংলা-জার্মান সমিতির সভাপতি জুলফিকার সৈয়দ মনা বলেন, ‘আমি এই সমিতির দায়িত্বে থাকতে পেরে নিজেকে বাংলাদেশী হিসেবে প্রবাসের বুকে গর্ব বোধ করি।  তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মানবকল্যাণে সমিতির সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করে খুবই আনন্দ পাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সহ-সভাপতি শামীম আজিজ, সাধারণ সম্পাদক জেমস জুয়েল বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নদী বিশ্বাস ও সহকারী কাজী নিগার সুলতানা, উপদেষ্টা-বদরুল হায়দার আরজু, ডেভিড কামার, প্রদীপ সাহা, কোষাধ্যক্ষ হাবিবুর কাজী হাবিব, সদস্য- সত্যোজিৎ অপু, পরিক্ষিথ রায়, হারুনর রশীদ হারুন, স্বপন কুমার রায়, বাবুল সরকার এবং রিয়াজ সেলিম, রুমা।
এছাড়া অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্যে সহযোগিতায় ছিলেন ছন্দা, শিমুল, করিনা, তাপসি, আলো, ডোরা, রুমা, অর্চনা, ডেমি, এলকে, শীলা, রওশনা হায়দার ও মিঠু বৌ দি।  অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  উপস্থিত সবার জন্য বাঙালির ঐতিহ্যের বাহারি খাবার।  সাংস্কৃতিক মিলন মেলায় আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশীদের ঐকতানে আনন্দ গান ও খাবার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনান্তে শেষ হয় বাংলা-জার্মান সমিতির বর্ণিল গ্রীষ্মকালীন উইকেন্ডের আয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ